বিশেষ আয়োজন

উন্নয়নের ফেরিওয়ালা মোকতাদির চৌধুরীর গল্প

মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশপ্রেম, সঠিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন ভাবনা ও এলাকার প্রতি মমত্ববোধ থাকলে জনপ্রতিনিধিরা যে একটি এলাকার চেহারা বদলে দিতে পারেন তার প্রকৃত উদাহরণ হলেন র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।
তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে পর পর তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর বড় গুণ তিনি কথা মালায় নয়, কাজে বিশ্বাসী, তিনি প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নন, কাজে বিশ্বাসী। গত ১০ বছরে তিনি তার কথার প্রমান দিয়েছেন।
তাঁর হাতের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃশ্যপট। শুধু উন্নয়ন কর্মকান্ডই নয়, মোকতাদির চৌধুরী এম.পির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তাঁর নির্বাচনী এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতিও এখন আছে সন্তোষজনক পর্যায়ে। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে অস্ত্রবাজ, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ছিনতাইকারীসহ সমাজবিরোধীরা এখন কোণঠাসা। তিনি নরমের ভক্ত, শক্তের যম।
উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে গত ৯ বছরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন উন্নয়নের নগরী। তিনি আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য, বিজ্ঞান মনষ্ক, একটি আধুনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়তে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পর পর তিনবার সংসদ সদস্য থাকার সুবাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস্তবায়িত হয়েছে বেশ কিছু মেঘা প্রকল্প। আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। যার সুফল এখন ভোগ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। শহরের টি.এ.রোডে মৌড়াইল রেলওয়ে ওভারপাস নির্মান করে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গত কয়েক যুগের নিত্যদিনের যানজট দূর করেছেন। ওভারপাসটির কারনে একদিকে যেমন শহরের যানজট কমেছে, অপরদিকে শহরের সৌন্দর্য্যও বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগর উপজেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়ক প্রায় ১০ কিলোমিটার লম্বা “ শেখ হাসিনা” সড়কের নির্মান কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। সড়কটির নির্মান কাজ শেষ হলে তিতাসের পূর্বপাড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আদলে গড়ে উঠবে আরেকটি উপ-শহর। শিক্ষা-দিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রস্তার গঠবে বিজয়নগরে। সড়কটি নির্মান কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিজয়নগরের চরাঞ্চলে জমির দাম বহুগুন বেড়েছে।
শহরের মেড্ডা থেকে ভাদুঘর পর্যন্ত তিতাস নদীর পূর্বপাড়ের বেরি বাধটি ভ্রমন পিয়াসুদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। ইতিমধ্যেই তাঁর নির্বাচনী এলাকার সদর ও বিজয়নগরে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করায় তিনি জনগনের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি শহরের কেন্দ্রস্থলে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
গত ১০ বছরে তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২তলা বিশিষ্ট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন নির্মান, চারতলা বিশিষ্ট পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক নির্মাণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ৫তলা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস নির্মাণ, সার্কিট হাউজের তিনতলার নির্মাণ কাজ, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তিনতলার নির্মাণ, ২নং শহর পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাট ফরম বর্ধিত করণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে বহুতল বিশিষ্ট শেখ হাসিনা একাডেমিক ভবন, বিজয়নগর উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, বিজয়নগর থানা, বিজয়নগরে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়, বিজয়নগরের ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ি ভবন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ভবন, পূর্ব মেড্ডায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মান, পৌর ডিগ্রী কলেজের তৃতীয়তলা ভবন, মোহাম্মদপুর-সেন্দা রাস্তার প্রতিরক্ষা দেয়াল, মৈন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, মেড্ডা (পশ্চিম) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন, নতুন করে আদর্শ কেজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মান, নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মান, বিজয়নগরের চম্পকনগর স্কুল এন্ড কলেজে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মান, কালাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মান, সদর উপজেলার চাপুইর ইসলামিয়া আলীয়া মাদরাসার ভবন নির্মান, বুধল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতল ভবন নির্মান, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মান, ঘাটুরা বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মান, নরসিংসার বেগম নুরুন্নাহার কলেজে বহুতল বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যবর্তী খালের উপর তিনটি নতুন ব্রীজ নির্মাণ, রামরাইলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ব্রীজ নির্মাণ, ঘাটিয়ারা হেলিডে রোডে ব্রীজ নির্মাণ, বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে ৫তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ, চিনাইর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, দুবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ, সোহাতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, কাঞ্চনপুর মলাই মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ, বিজয়নগরের বালিয়াজুরি নদীতে ব্রীজ নির্মাণ, বিজয়নগরের কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ডিগ্রী কলেজে দ্বিতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ, সুহিলপুর আলহাজ্ব হারুন-আল-রশিদ কলেজে একাডেমিক ভবন নির্মান, চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের হোস্টেল নির্মাণ, বিজয়নগরের রামপুর-মনিপুর সড়ক নির্মাণ, পৌর এলাকার পুনিয়াউট থেকে রামরাইল পর্যন্ত মহাড়কের প্রশস্থকরণকাজ, সুলতানপুর থেকে আখাউড়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সড়কের সোজাকরণ ও প্রশস্তকরনের কাজ, বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ। সুলতানপুর যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সুলতানপুর-চিনাইর-আখাউড়া সড়ক, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, জেলা কারাগার প্রভৃতি নির্মাণ। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠায় তার রয়েছে অসামান্য অবদান।
এছাড়াও বর্তমান সরকারের আমলে সদর ও বিজয়নগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কাজ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মোকতাদির চৌধুরী এমপি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেছিলেন। ইশতেহারে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মান, একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ, একটি পূর্নাঙ্গ নার্সিং কলেজ নির্মাণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বিজয়নগরে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন, বিজয়নগরে একটি কৃষি কলেজ স্থাপন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজে আসন বৃদ্ধি, তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে পরিকল্পিত উপশহর গড়ে তোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরের বিসিক শিল্পনগরীকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পপার্ক, সদর উপজেলার সুলতানপুরে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা, একটি শিশু পার্ক নির্মাণ, ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালকে ৫০০ শষ্যায় উন্নীতকরণ, ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০শষ্যায় উন্নীতকরণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থপেডিক হাসপাতাল নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নকে গতিশীল করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি, বিজয়নগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে দুটি আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, শহরে একটি ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ, প্রবাসীদের পরিবারের কল্যাণে একটি হাউজিং এস্টেট তৈরীর উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়, সুশাসন ও নিরাপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ধর্মীয় সহনশীলতা, মানব উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন ও শিল্পায়ন, নগরায়ন ও দৃষ্টিনন্দন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গ্রামীন উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন, মাদক প্রতিরোধ, খেলাধুলা ও বিনোদন, নারীর ক্ষমতায়ন, গণমাধ্যম, শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি, পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করার কথা বলা হয়।
(একটি হোয়াইট নিউজ এর বিশেষ আয়োজন)