ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিকিৎসকদের সুরক্ষায় ছাত্রলীগের ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’

চিকিৎসকদের সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ। হাসপাতালে আগত কোনো রোগী বা স্বজনদের মাধ্যমে যেন চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত না হন, সেজন্য জেলা সদর হাসপাতালে ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বার’ করে দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। বাক্সের আদলে তৈরি করা চেম্বারটির ভেতরে থাকবেন চিকিৎসক আর বাইরে থাকবেন রোগীরা। হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনেই চেম্বারটি করা হয়েছে। আগামী রোববার (১০ মে) চেম্বারটি আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, স্বচ্ছ কাঁচ এবং স্টিল দিয়ে ডক্টরস সেফটি চেম্বারটি তৈরি করা হয়েছে। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে সাতদিন। এ কাজে ছাত্রলীগকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। চেম্বারটি তৈরিতে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকা। সাংসদ মোকতাদির চৌধুরী এবং ছাত্রলীগ নেতারা এই অর্থের যোগান দিয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিন জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগের সামনে ‘ডক্টরস সেফটি চেম্বারটি’ রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও রোগীদের কথোপকথনের জন্য চেম্বারের ভেতরে এবং রাইরে পৃথক দুটি মাইক্রোফোন সংযুক্ত করা হয়েছে। কোনো রোগীকে স্পর্শ করার প্রয়োজন হলে কঁাচের ভেতর দিয়ে গ্লাভসও লাগানো হয়েছে। এছাড়াও চেম্বারের ভেতরে চিকিৎসকদের বিশ্রমের জন্য বেঞ্চও রাখা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘সারাবিশ্বের এখন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। বর্তমান সংকটকালে নিজেদের জীবন বাজি রেখে চিকিৎসকরা আমাদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন। সেজন্য তাদের সুরক্ষার বিষয়টিও আমাদের ভাবতে হবে। কারণ হাসপাতালে আগত কোন রোগীর মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে কিংবা আক্রান্ত সেটি বুঝার কোনো উপায় নেই। এক্ষেত্রে রোগীরা তথ্য গোপন করার কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেজন্যই আমরা চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এই সেফটি চেম্বার করেছি’।

এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যেহেতু করোনাভাইরাস এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে। তাই আমরা জানি না কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বা কে আক্রান্ত না। সেক্ষত্রে চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য এই চেম্বারটি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। এ চেম্বারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিরপাত্তা বজায় রেখে রোগীদের সাথে কথা বলতে পারবেন, সেবা দিতে পারবেন’।


উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রবাসীসহ ৫৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন দুইজন। আর সুস্থ্য হয়েছেন ২৮ জন। বাকিরা আইসোলেশনে রয়েছেন।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment