কসবায় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, জানেন না অভিযোগকারীরা!

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আড়াই হাজার টাকার তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন প্যানেল মেয়রের বিরুদ্ধে। 

এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী হিসেবে যাদের নাম দেয়া হয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে কসবা মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন পাঁচ অভিযোগকারী। সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেও দাবি করেন ওই চার জনপ্রতিনিধি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- কসবা পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু জাহের, কসবা পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিক ও বায়েক ইউপির চেয়ারম্যান আল মামুন ভূইয়া। আর খাড়েরা ইউপির চেয়ারম্যান কবির আহমেদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তার পক্ষে প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাইম অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। 

সংবাদ সম্মেলনে কাউসার মিয়া, বাছির, রফিকুল ইসলাম, কামাল ও সাদ্দাম নামে পাঁচজন অভিযোগকারীকে হাজির করা হয়। তারা কেউ অভিযোগ করেননি এবং অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেন। এছাড়া কীভাবে লিখিত অভিযোগে তাদের স্বাক্ষর গেছে সেটিও তারা জানেন না। তাদের মধ্যে একজন স্বাক্ষর করতে পারেন না বলেও জানান।

কসবা পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু জাহের বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ দেয়া হয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের আমি চিনি না। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের ফলে সামাজিকভাবে এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আমি হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমিও তো একজন মানুষ, অপরাধ না করেও কেনো আমাকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে?

কসবা পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিক বলেন, যাদেরকে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে তাদের কেউই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেননি; বরং তারা অভিযোগের খবর জেনে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। যারাই এ ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানান।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment