লাল-সবুজের প্রতিনিধি ‘নির্ভীক’ যাবে মঙ্গলগ্রহে



নিউজ ডেস্ক :

নির্ভীক যাবে মঙ্গলগ্রহে ! কি, চমকে উঠলেন? না! না! নির্ভীক কোনো মানুষের নাম নয়, এটি বুয়েটের শিক্ষার্থীদের তৈরি একটি ড্রোন। ভারত আয়োজিত ‘মার্স সোসাইটি সাউথ এশিয়া’র একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দলটি নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন অন্যান্য দেশের নভোযানের দখলে থাকা মঙ্গলে এবার উড়ার সুযোগ পাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্বকারী এই ড্রোন।

বুয়েটের শিক্ষার্থীরা এবারই প্রথম ড্রোন বানালেও এর আগে বেশ কিছু রোভার বানিয়েছে তারা। কিন্তু মঙ্গল গ্রহে ড্রোন পাঠানো সম্ভব কি না সম্প্রতি এমন একটি আয়োজন করে মার্স সোসাইটি যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩০ টি দল অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী ৩০টি দলের মধ্যে ৮ম স্থান করে বুয়েট। পরের স্থানটি (৯ম স্থান) দখল করে নেয় খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আর ১৬তম স্থানে রয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ইন্টারপ্ল্যানেটার দলটির সদস্য ফারসিয়া কাওসার চৌধুরী বলেন, কেউ যদি জানতে চায় ড্রোন কিভাবে কাজ করে বা কিভাবে বানায়? তার জন্য প্রচুর রিসোর্স রয়েছে, তারা সেটা বানাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ড্রোনটা পৃথিবীর উপযোগী করে বানানো হয় নি। তাই যখন এটিকে মঙ্গলগ্রহের উপযোগী করে বানাতে হয় তখন সেটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন অনেক বেশি আলাদা আর কমপ্লেক্স হয়ে যায়।  

দেশে যদি বিজ্ঞান গবেষণার দ্বার আরো বিস্তৃত হতো, সেক্ষেত্রে ড্রোনটিকে সরকারি সমর্থন নিয়ে দেশ থেকেই মঙ্গলে পাঠানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন তারা।

ইন্টারপ্ল্যানেটার দলের সদস্য নাফিজ ইমতিয়াজ জানান, বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন সেক্টরের জন্য ড্রোন তৈরি হচ্ছে। আমাদের বানানো এই ড্রোনটি ডেভেলপ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে বা কৃষির উন্নয়নকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইন্টারপ্ল্যানেটার’র দলনেতা খন্দকার শিহাবুল হক বলছেন, শুধু ড্রোন বানানোই শেষ কথা নয় এটিকে মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত পৌঁছানো লাগবে। সে লক্ষ্যে আমাদের দেশে এমন একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। 

বাংলাদেশে ড্রোন বানানোর ইতিহাস এবারই প্রথম নয়। তবে মঙ্গল গ্রহে পাঠাতে চাওয়া ড্রোন দেশে এবারই প্রথম নির্মিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ভীক বানানোর জ্ঞান দেশের অন্যান্য সেক্টরগুলোতেও কাজে লাগানো সম্ভব।

দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ ও সমর্থন পেলে মহাকাশ গবেষণার সাথে সাথে প্রযুক্তির উন্নয়নও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে অভিমত তাদের।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment