ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের অনিয়ম থামাবে কে?


স্টাফ রিপোর্টার:

নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোনো দপ্তরের জন্য ২৫ হাজার টাকার বেশি কোনো ক্রয় ও সেবা গ্রহণ করতে হলে দরপত্র আহ্বান করতে হয়। আর জরুরি প্রয়োজন হলে আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) প্রস্তাবও আহ্বান করা যায়। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার দরপত্র বা কোটেশন প্রস্তাব আহ্বান ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংস্কার কাজ করছে। আর সংস্কার কাজের জন্য জেলা পরিষদের প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ সকল সরঞ্জামের যোগান দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছে, জরুরি প্রয়োজনে দরপত্র ছাড়াই কোটেশন দিয়ে সংস্কার কাজ করা যায়। তবে সহিংসতার তিন মাসেরও বেশি সময় পর এসে জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে এই সংস্কার কাজ করাকে নিয়মের লক্সঘন বলছেন অনেকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের এমন অনিয়ম থামাবে কে?

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে জানান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদের মাধ্যমে সংস্কার কাজটি করাচ্ছেন। প্রকৌশলী হামিদ প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামের যোগান দিচ্ছেন। এমনকি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির টাকাও তিনিই পরিশোধ করছেন।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সংস্কারকাজের জন্য সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দ থেকে জেলা পরিষদ সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গনের সংস্কার কাজের জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়েছে। জেলা পরিষদের তহবিলে সংস্কার কাজের জন্য ৯৫ লাখ টাকা রয়েছে। এই টাকা থেকেই জেলা পরিষদ কার্যালয় ভবনের পশ্চিম দিকের নিচতলার সার্ভেয়ার ও ইলেকট্রিশিয়ান, মিলনায়তন, সভাকক্ষসহ ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষগুলোর সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। গত ২ জুলাই থেকে চলচে এ সংস্কার কাজ। তবে কার্যালয়ের কোথাও সংস্কার কাজের কোটেশন বা প্রস্তাবের নোটিশ ঝুলানো হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমি কোনো সরঞ্জাম সরবরাহ করিনি। আমি শুধু শ্রমিকরা ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা- সেটি তদারকি করছি’।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন সংস্কার কাজ কোটেশনের মাধ্যমে করতে পারি। আর কোটেশন প্রস্তাব আহ্বান করা না হয়ে থাকলে দ্রুতই তা করা হবে। দ্রুতই কোটেশনের নোটিশ দেওয়া হবে’।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সভা করার কোনো জায়গা ও চেয়ার-টেবিল নেই। প্রকৌশলীকে এসবের ব্যবস্থা করতে বলেছি। আমরা এখনো টাকা নিইনি এবং দিইনি’।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment