সরাইলে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু 

স্টাফ রিপোর্টার:


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আয়েশা বেগম (৮০) নামে এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই নিয়ে উত্তেজনা ও বিরাজ করছে। মারা যাওয়া বৃদ্ধা আয়েশা বেগমের পরিবারের সদস্যরা তাদের দীর্ঘ দিনের প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে সরাইল একটি হত্যা মামলা দায়ের করার চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ বলছে বৃদ্ধা আয়েশা বেগমের লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা জানান সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শোলাবাড়ি গ্রামের মৃত গুণি মিয়ার স্ত্রী বৃদ্ধা আয়েশা বেগম। বয়স ৮০ বছরের অধিক। তিনি দীর্ঘ দিন বিছানায় শয্যাশয়ী অবস্থায় পড়ে আছে। শারিরিক অসুস্থতার কারনে তিনি চলাফেরা করতে পারে না।

রবিবার সকালে স্থানীয় পানিশ্বর বাজারে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা আয়েশা বেগমের ছেলে শাহ আলম মিয়ার ভাতিজা শাজাহান মিয়া স্থানীয় দুলাল মেম্বারকে মারধর করে। বিষয়টি দুলাল মেম্বার সরাইল থানা পুলিশকে অবগত করে। পরবর্তীতে একই দিন তার ছেলে শাহ আলম মিয়া ও তার প্রতিপক্ষ ইউনুছ মিয়া এই দুই পক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে তাদের স্ব-স্ব মামলার হাজিরা দিতে চলে যায়। আদালতে থাকা অবস্থায় দুপুরের দিকে খবর আসে শাহ আলমের বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগম স্টোক করেছে। এই খবর পেয়ে শাহ আলম দ্রুত বাড়িতে ছুটে যায়। বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

বৃদ্ধা আয়েশা বেগমের ছেলে শাহ আলম অভিযোগ করেন তার বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগমকে ইউনুছ মিয়া ও তার ভাতিজা শাকিল ধাক্কা দিয়ে ফেললে তিনি আহত অবস্থায় মারা যায় বলে তিনি দাবি করেন। এই মৃত্যুর খবর রবিবার বিকালে শোলাবাড়ি গ্রামে পৌছলে শাহ আলম মিয়া লোকজন প্রতিপক্ষ ইউনুছ মিয়া ও দানা মিয়া বাড়ি ঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর এবং লোটপাট করে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে ইউনুছ মিয়া জানান শাহ আলমদের সাথে আমাদের মামলা চলমান আছে। এছাড়া ঘটনার সময় আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে ছিলাম। তারা আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা করেছে। দানা মিয়া নামে একজন জানান বৃদ্ধা আয়েশা বেগমকে ধাক্কা দেওয়ার মত এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বৃদ্ধা আয়েশা বেগম চলাফেরা করতে পারে না। এখন তার মৃত্যুকে পুজিঁ করে আমাদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে। পাশপাশি গুজব ছড়িয়ে আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর এবং লোটপাট করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ফায়েজুর রহমান ফয়েজ বলেন, বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তার মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। এদিকে সোমবার দুপুরে বৃদ্ধা আয়েশা বেগমের লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। আসর নামাযের পর তাকে স্থানীয় শোলাবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এই ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান বৃদ্ধা আয়েশা বেগমের লাশের ময়না তদন্ত পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পাশপাশি এই যাতে কোন রকম সংর্ঘষ না হয় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment