বেপরোয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামিল খান

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালিদ জামিল খান। তিনি দীর্ঘ ১৭বছর ধরে এই উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ১৯৯৩-২০০৪ সাল এবং ২০১৫-২০২১ দুই মেয়াদে এই উপজেলায় একই পদে চাকুরী করছেন। তার বাড়ি জেলার সরাইলের পার্শ্ববর্তী আশুগঞ্জে। আর এ সুযোগে দীর্ঘদিন একই উপজেলায় চাকুরীর সুবাধে বেপরোয় হয়ে উঠেছেন তিনি। সর্বদা ভয়ে তটস্থ থাকেন কর্মচারী ও শিক্ষকরা। অবৈধভাবে ভাতা গ্রহন, ঘুষ বাণিজ্য, স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষককে এমপিও করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি এই শিক্ষা কর্মকর্তার বাথরুম পরিস্কার, রান্না-বান্না ও কাপড় ধোয়াসহ ব্যক্তিগত কাজ করে না দেয়ায় চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মচারীকে অকথ্য অত্যাচার ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সেপ্টেম্বর মাসে সরাইল উপজেলার ইউআইটিআরসিই সেন্টারের (শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) পরিচ্ছন্নকর্মী মোঃ নাছির উদ্দিন খান তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে থেকে জানা যায়, মোঃ নাছির উদ্দিন খান ২০১৯সালের ২৩ জুন সরাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেন। কিছুদিন পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালিদ জামিল খান তাকে দিয়ে বাথরুম পরিস্কার, রান্না-বান্না, কাপড় ধোয়াসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে থাকেন। ব্যাঘাত ঘটে নিয়মিত কাজের। পরে সে শিক্ষা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে ওই শিক্ষা কর্মকর্তা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে বিভিন্ন সময় অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধরসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এমন কি ওই শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষকদের সাথেও নানা অজুহাতে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বেপরোয়া আচরণের বিষয়ে ইউআইটিআরসিই’র সহকারী প্রোগ্রামারকে অবগত করলেও কোন সুরাহা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ইউআইটিআরসিই সেন্টার পরিচালনাকালীন সময়ে প্রশিক্ষনার্থীদের নাস্তার ৫০টাকা বরাদ্দ থাকলেও দিতেন ১০/১৫ টাকার নাস্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনটিআরসি কতর্ৃক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা এবং শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির জন্য ১০হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের সময় ২০হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। প্রতিবছর মেয়াদোর্ত্তীন বই দরপত্র ছাড়াই বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সরাইল উপজেলায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (ইউআইটিআরসিই) ট্রেইনার হিসেবে তার কোন ট্রেনিং না থাকলেও রুটিনে নাম ঢুকিয়ে অন্যকে দিয়ে ক্লাস নিয়ে ভাতা নিচ্ছেন। এছাড়াও ২০১৯ সালে সরাইলের দেওড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে তার আত্মীয় মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামকে চাকুরী দিতে গিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালিন শিক্ষক মোঃ মনিজুর রহমানকে অতিরিক্ত কোটার শিক্ষক দেখিয়ে এবং শিক্ষক বিবরণীতে মনিজুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে ডিজিতে আমিনুল ইসলামের কাগজপত্র পাঠিয়ে এমপিও করেন। এ ঘটনায় মনিজুর ইসলাম ৬জনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার ৬ নম্বর আসামি সহিদ খালিদ জামিল খান। মামলনা নং সিআর ৫৫১/১৯।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ জামিল খান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি চক্র তার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা চালাচ্ছে।

এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফি উদ্দিনের কাছে জানতে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment