ভিপি হাসানের শোডাউনে চমক

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আগমন উপলক্ষে বিশাল শোডাউন করেন ভিপি হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান চপল এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা আগমনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি অনার্স কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাসান সারোয়ারের শোডাউন চমক সৃষ্টি করেছেন।

গত দুই বছর যাবত করোনা ধাক্কায় সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াও ছিল স্থবির। বর্ধিত সভাকে ঘিরে হাসান সারোয়ারের বিশাল আয়োজন চমকে দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে।
যেন সোনার কাঠির ছোঁয়ায় জেগে উঠেছে শহর। দীর্ঘদিন পর শহরবাসী শুনতে পেয়েছে বুভুজেলা আর বাশির সুর। মোটরসাইকেলের বহর ও হর্ণের গগনবিদারী আওয়াজে কেঁপেছে জেলা শহর থেকে আশুগঞ্জের নদী পাড় পর্যন্ত। কয়েকহাজার সমর্থক ও নেতাকর্মী নিয়ে বাহারি সজ্জায় ভিপি হাসানের শোডাউন ছিল দৃষ্টিনন্দন। সকালে আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা পৌঁছলে ফুল দিয়ে তাদের বরণ করেন ভিপি হাসান ও তার সমর্থকরা। যুবলীগ নেতাকর্মীরা পরে ব্যাপক মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসেন।

দীর্ঘ ৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা। আর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে দেড় যুগ- টানা ১৮ বৎসর পর। দীর্ঘদিন পর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছিল চাঙ্গা ভাব। আগামী সম্মেলনে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পদপ্রত্যাশীরা শহরকে সাজিয়েছেন বর্নিল সাজে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেই নির্মিত হয়েছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের প্রায় ত্রিশটি তোড়ন। শহরে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের উপরে ও রাস্তার পাশে টানানো হয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক বিলবোর্ড ও ব্যানার।

বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সভাপতি প্রার্থী দলের পরীক্ষিত নেতা হাসান সারোয়ার প্রায় অর্ধ শতাধিক তোরণ ও দুই শতাধিক বিলবোর্ড নির্মাণ করেছেন। সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী আরও অনেক নেতা থাকলেও জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরিতে হাসান সারোয়ারের ব্যাপক আয়োজন ছিল সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক। জেলাজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে উৎসবের আমেজ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়কের দু’পাশে তোরন-ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই হাসান সারোয়ারের সমর্থনে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব পথসভায় হাসান সারোয়ার সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

আশুগঞ্জ টোলপ্লাজায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ফুল দিয়ে বরণ করেন হাসান সারোয়ার ও তার সমর্থকরা। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে গাড়িবহরকে লীড দিয়ে হাসান সারোয়ার ঘাটুরা নিয়ে আসেন। পথে কুমিল্লা-সিলেট ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দু’পাশে হাসান সারোয়ারের সমর্থকেরা গোলাপের কুঁড়ি ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানান। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অভ্যর্থনার জন্য আশুগঞ্জে যেতে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আশুগঞ্জ থেকে নিয়ে আসার উৎসবে শামিল হয় মহাসড়কের দু’পাশের স্থানীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। মহাসড়কের দু’পাশে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাসান সারোয়ারের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এ সময় ‘জেলা যুবলীগ সভাপতি পদে হাসান সারোয়ারকে চাই’- শ্লোগানে পথে হাজার হাজার জনতার শ্লোগান মুখরিত হয় চারপাশ।

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে এসে জেলা সার্কিট হাউজে অবস্থান নেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বর্ধিত সভায় যোগ দেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাঈম। জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান চপল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক আলামিনুল হক আল আলামিন, সদস্য মজিবুর রহমান, আশিকুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, এইচএম আল-আমিন আহমেদ ও শিরিন শিলা। বর্ধিত সভায় জেলা যুবলীগসহ উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংগঠনিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment