আমাদের একজন হুমায়ূন ফরিদী ছিলেন!



নিউজ ডেস্ক :

অভিনয় যদি কোনো মোনালিসা বা দ্য লাস্ট সাপার হয় তবে তিনি সেই মোনালিসার লিওনার্দো দা ভিঞ্চি হবেন অনায়াসেই। কিংবা অভিনয় যদি কোনো ভাস্কর্য হয় তবে ভাস্কর হিসেবে তাঁর নাম আসবে সর্বাগ্রে। তিনি হুমায়ূন ফরিদী। আমাদের হুমায়ূন ফরিদী।

জাত দাপুটে অভিনেতা বলতে আদ্যোপান্ত যা বোঝায় তাই ছিলেন তিনি। অনায়াসে নিজের চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার জাদুকরী ক্ষমতা তার ছিলো অসামান্য। এতো অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলতেন চরিত্রগুলোকে যে দর্শকরাও নিমেষেই হারিয়ে যেতেন সেই অভিনয়ের মোহনীয় মায়াজালে। খল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত হলেও ইতিবাচক চরিত্রেও তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। শুধু সিনেমা নয়, টেলিভিশন নাটক এবং মঞ্চেও তিনি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সমানতালে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সেখানে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি বাংলা নাটকের কিংবদন্তি পুরুষ সেলিম আল দীন সহচার্যে আসেন। সে সময় জাবির নাট্যকলা বিভাগের মঞ্চনাটকের খ্যাতি ছিলো তুঙ্গে। ঠিক তখনই সেলিম আল দ্বীনের ‘শকুন্তলা’ নাটকের তক্ষক চরিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। এরপর ১৯৮২ সালে তিনি ‘নীল নকশার সন্ধানে’ নামক এক টেলিভিশন নাটকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেন। এরপর, একে একে অভিনয় করেছেন ‘ভাঙ্গনের শব্দ শোনা যায়’, ‘সংশপ্তক’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’ এবং ‘কোথাও কেউ নেই’- এর মতো একের পর এক দর্শকপ্রিয় জননন্দিত নাটকে। ২০১১ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ ‘মেহেরজান’ সিনেমায় তিনি স্ক্রিন শেয়ার করেন কিংবদন্তি বলিউড অভিনেত্রী জয়া বচ্চনের সঙ্গে। হুলিয়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যিশু’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ইত্যাদি তাঁর অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা। শহীদুল্লাহ কায়সারের বিখ্যাত সংশপ্তক নাটকে তাঁর ‘কানকাটা রমজান’ চরিত্রটি আজও বাংলার মানুষ মনে রেখেছে একইভাবে।

১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আজ এই প্রথিতযশা অভিনেতার জীবনের ৬৯তম বসন্ত। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক ফাগুনরাঙা দিনে চিরঘুমের দেশে পারি জমান ক্ষণজন্মা এই অভিনেতা। তাঁর মৃত্যুরও ন’বছর পেরিয়ে গেছে বটে তবে তিনি এখনো আমাদের মণিকোঠায় বেঁচে আছেন আগ্রহের শীর্ষবিন্দুতে সমান আবেদন নিয়ে।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment