বিজয়নগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ৮

স্টাফ রিপোর্টার:

পূর্ব শত্রুতার জেরে ফাঁদ পেতে হামলা চালিয়ে ১৮ বৎসরের যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৮ জন। গত বৃহস্পতিবার জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কালিবাজার ব্রীজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত মোস্তাফিজ ইছাপুরা ইউপি’র ধীতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। মোস্তাফিজ বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত অন্যান্যরা বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনায় আহতের মামা আকরাম মিয়া বাদী হয়ে বিজয়নগর থানায় উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের তুলাতলা গ্রামের গুনু হাজীর পুত্র মতি ডাক্তার (৪২) ও আবদুল জাহেরের পুত্র সুরুজ মিয়া (৪০) এর নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামী করে এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর মিয়া পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী এলাকায় বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার পরিবার নিয়ে জাহাঙ্গীর বিজয়নগরের বাড়িতে যান। বিষয়টি প্রতিপক্ষরা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালিবাজার থেকে জাহাঙ্গীরের ছেলে মোস্তাফিজসহ পরিবারের আরও কয়েকজন বাড়ি ফেরার পথে কালিবাজার ব্রীজের সামনে পূর্বপরিকল্পনামতে দেশীয় ধারালো অস্ত্রাদি দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় মতি ডাক্তারের নির্দেশে সুরুজ মিয়া তার হাতে থাকা রাম দা দিয়ে আঘাত করে মোস্তাফিজের মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম করে। মতি ডাক্তার তার হাতে থাকা রাম দা দিয়য়ে আঘাত করলে মোস্তাফিজের ডান হাতে মারাত্মক জখম করে। তাদের উপুর্যপুরি আঘাতে মোস্তাফিজ সারা শরীরে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়। এক পর্যায়ে সুরুজ মিয়া মোস্তাফিজের গলায় চেপে ধরে শ্বাসরুরোধ করে মেরে ফেলার উপক্রম করে। এ সময় মোস্তাফিজের সাথে থাকা অন্যান্যরা তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাথারি মারধর করে তারা। হামলার সময় মোস্তাফিজের মোবাইল ও নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেয়। চারপাশে লোকজন জমায়েত হচ্ছে বুঝতে পেরে মামলা করলে জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসামীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে মোস্তাফিজসহ অন্যান্য আহতদের চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

মোস্তাফিজের পিতা জাহাঙ্গীর মিয়া জানান- মতি ডাক্তার ও সুরুজ মিয়া অনেকদিন যাবত আমাদের ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। শেষ পর্যন্ত আমাকে না পেয়ে আমার ছেলেকে উপর হামলা করেছে। এখন আমি ও আমার পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা যে কোনো সময় আবারও আমাদের উপর হামলা করতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।

বাদী আকরাম মিয়া বলেন- একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের সব আত্মীয়-স্বজন গ্রামের বাড়িতে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা আমাদের আনন্দকে বিষাদে ভরিয়ে দিল।

তিনি বলেন- থানায় এজাহার দাখিল করেছি। আমি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

এদিকে থানা সূত্রে জানা গেছে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় এজাহার রেকর্ড হয়নি।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment