কেন্দ্র দখলে নিতে পারেন আ. লীগ প্রার্থী!

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন ভোটকেন্দ্র দখলে নিতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কবির আহমেদ।
পাশাপাশি সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ নিয়ে গতকাল সোমবার (২২ নভেম্বর) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কবির আহমেদ। তিনি নির্বাচনে ‘ঘোড়া’ প্রতিক নিয়ে লড়ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী কবির আহমেদ এবং তার সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ভোটেরদিন কেন্দ্র দখলে নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ার সন্ত্রাসীবাহিনী ঠিক করছেন এবং তার বিশ্বস্ত লোকজনের বাড়িতে দেশি-বিদেশী অস্ত্র মজুদ করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার ও তার লোকজন রাতের আধারে ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন যে- তাকে ভোট না দিলে তাদেরকে এলাকাছাড়া করবেন।

এছাড়াও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তিন ভোটকেন্দ্র বাইশমৌজা বাজার অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র, কিশোরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আমতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র ওপেন ভোট গ্রহণের জন্য চেষ্টা করছে। যাতে করে শুধু ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে এজেন্টদের দিয়ে নৌকা প্রতিকে যেন ভোট কনফার্ম করা যায়। ওপেন ভোটের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন নির্বাচনী প্রচারণামূলক বিভিন্ন সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র দখল করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার লোকজন অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকে ওপেন ভোট নেওয়া হবে বলেও বিভিন্ন সভায় বক্তব্যে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার।
পাশাপাশি আমার কর্মী-সমর্থকদের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনকে দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন’।

তবে অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আপনারা এলাকায় এসে ভোটারদের জিজ্ঞেস করেন- আমি কাউকে এসব কথা বলেছি কিনা। সে (কবির আহমেদ) তো এগুলো করে অভ্যস্ত। সে নিজেই ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নবীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজগর আলী বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযোগের কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় ফরওয়ার্ড করা হয়েছে’।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘বীরগাঁওয়ে আমাদের সাড়াশি অভিযান চলছে। নবীনগরের সবকটি ইউনিয়নের মধ্যে আমরা বীরগাঁওকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিদিন আমাদের লোক যাচ্ছে, কাজ করছে।

Related posts

Facebook Comments

Default Comments

Leave a Comment